,

পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলেন বরগুনা পুলিশ সুপার বিজয় বসাক

মীর জামাল, বরগুনা থেকে ♦

বরগুনা জেলায় সবুজ বনায়ন সৃজন ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় বিশেষ সম্মাননা পেলেন বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক (পিপিএম)। শনিবার তালতলী উপজেলার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৭ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। বরগুনা আলোকযাত্রা টিম পুলিশ সুপারের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। অনুষ্ঠানে লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম হায়দারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল ২০১৭ এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও উপকূল সন্ধানী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবী-উল-কবির জমাদ্দার, তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কমলেশ চন্দ্র হাওলাদার, সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন ফরাজী, বন বিভাগের টেংরাগিরি বিট কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন প্রামাণিক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক বরগুনা শাখার কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, বরগুনা জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি মো. নুরুজ্জামান ফারুখ, তালতলী প্রেসক্লাব সভাপতি মুহা: আ: মোতালিব, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালের ১৪ জুন পুলিশ সুপার হিসেবে বরগুনায় যোগ দেন বিজয় বসাক। যোগদানের পর থেকে নানামুখী সৃজনশীল কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলেন তিনি। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলার স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরন করে সবুজ বনায়ন সৃজন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীও মূল্যায়ন করেছেন বিজয় বসাকের সৃজনশীলতাকে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং ২০১২ সালে তিনি অর্জন করেন আইজি ব্যাচ। এছাড়া বরগুনায় যোগদানের পর থেকে এ অবধি একাধিকবার বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শনিবার লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। সকালে সবুজের আহবান নিয়ে বর্নিল শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে কর্মসূচির সূচনা ঘটে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, রচনা লিখন, পত্র লিখন, ছবি আঁকা, সংবাদ লিখন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, গাছের চারা রোপণ, দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপকূলের পড়–য়াদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো, সৃজনশীল মেধার বিকাশ, লেখালেখি চর্চার মাধ্যমে তথ্যে প্রবেশাধিকারসহ জীবন দক্ষতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করে উপকূল বিষয়ক সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ‘উপকূল বাংলাদেশ’। ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশ সচেতনতামূলক এ কর্মসূচি এবার তৃতীয় বছরে পা রাখলো। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির স্থানীয় সংগঠক ও নিউজটোয়েন্টিফোর-এর বরগুনা জেলা প্রতিনিধি সুমন সিকদার। কর্মসূচির প্রেক্ষাপট ও উপকূলের সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচির কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ও আয়োজক প্রতিষ্ঠান উপকূল বাংলাদেশ-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্টু। অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরে ভেন্যু বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিপা আক্তার। অনুষ্ঠান সূচনা ও উপস্থাপনায় ছিল ভেন্যু বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মহুয়া তন্বী ও রিপা আক্তার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভিন্ন সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণের মধ্যদিয়ে বিদ্যালয়ের চারপাশে সবুজায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সবুজ উপকূল ২০১৭ কর্মসূচিতে সহ-আয়োজক হিসাবে রয়েছে উপকূলের স্কুল পড়–য়াদের সংগঠণ আলোকযাত্রা দল, আইটি পার্টনার হিসাবে থাকছে ডটসিলিকন, মিডিয়া পার্টনার হিসাবে থাকছে এটিএন বাংলা ও দৈনিক সমকাল। এবার উপকূলের ১৪টি জেলার ১৯টি উপজেলার ২০টি স্থানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। কর্মসূচিতে ১০০ স্কুলের প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এ নিয়ে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপকূল কর্মসূচির আওতায় আসছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা পেয়েছে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা, যা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে কাজে লাগছে। এবার সাতক্ষীরার শ্যানগরের মুন্সীগঞ্জ, গাবুরা, খুলনার পাইকগাছা, বাগেরহাটের সদর ও শরণখোলা, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া, বরগুনার তালতলী, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও চরমোন্তাজ, ভোলার চরফ্যাসন ও তজুমদ্দিন, চাঁদপুরের হাইমচর, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া, ফেনীর সোনাগাজী, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে সবুজ উপকূল কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ২০১৫ সালে ১০টি জেলার ১৩টি উপজেলার ৪০টি স্কুলের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরের বছর ২০১৬ সালে ১৪টি জেলার ২৫টি উপজেলার ১১৬টি স্কুলের প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থীকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। এবারের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে তিন বছরে উপকূলের ২৫৬টি স্কুলে ১ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবুজ উপকূল কর্মসূচির আওতায় আসবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক সবুজ উপকূল কর্মসূচির মাধ্যমে বরগুনা আলোকযাত্রা দল আমাকে যে সম্মাননা দিয়েছে তা আমাকে ভবিষতে সবুজ বনায়ন সৃজন ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করার অনুপ্রেরনা যোগাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, শুধু পাঠ্য বইয়ের পড়া মুখস্ত করে পরিক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি চারপাশের জগত সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। উপকূলের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। ভালো ফলাফলের সঙ্গে সাধারণ জ্ঞানের সংমিশ্রনই পারে মানুষের মত মানুুষ করে তুলতে। তোমাদেরকে ভালো মানুষ হয়ে প্রদীপের মত আলো জ¦ালাতে হবে, যাতে তোমার আলোতে আরও অনেকজন আলোকিত হতে পারে।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর