,

শীতের পিঠায় বেলালের জীবিকা

স্বপন কুমার ঢালী ♦
শীতের বিভিন্ন ধরণের পিঠা বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করছেন বেলাল হোসেন। শীতের ৩/৪ পিঠা বিক্রি করে উপার্জিত টাকা দিয়ে সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন পেশার মানুষ তার কাছ থেকে পিঠা কিনে নিচ্ছে। এ কাজে তার বেশ সুনামও রয়েছে।
বেতাগী পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ আশ্রাফ আলী মিয়া’র ২য় ছেলে বেলাল। বেলালের বয়স ৩৫ বছর। সংসারের অভাব অনাটনের কারনে মাত্র ২য় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে। এরপর বাবার সাথে শ্রমজীবির কাজ করে। কারো বাড়িতে কৃষি কাজের সহায়তা, আবার কারো সাথে রাজ মিস্ত্রির কাজে সহায়তা করা। এমনকি হোটেলের বয় হিসেবে কাজ করা। এভাবেই শৈশব ও কৈশরের দিনগুলো দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করে। ১০ বছর পূর্বে বেলালের বিয়ে হয় একই এলাকার সাথী বেগম (২৮) এর সাথে। ধীরে ধীরে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে। রোকেয়া (৮) ও সৈকত (৩) নামে দুই সন্তানের বাবা বেলাল। মেয়ে রোকেয়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে। বৃদ্ধ মা বাবাসহ পরিবারের ৬ সদস্যের ভরণ পোষণের জন্য বেলাল শীতের মৌসুমে বেছে নেয় শীতের বিভিন্ন রকম পিঠা তৈরির কাজ। আর এ কাজে তাকে সহায়তা করে স্ত্রী সাথী বেগম ।
বেতাগী বাস স্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে ছোট একটা ঘর ভাড়া নেয়। আর এ ঘরে বসেই বেলাল চিতই পিঠা, দুধ চিতই, পাটি-সাপটা, দুধ পাটি-সাপটা, নারিকেল দিয়ে কুলি পিঠা, বাপা পিঠা, পুলি পিঠা, বড়া পিঠাসহ বিভিন্ন ধরণের পিঠা তৈরি করে। আর এসব পিঠা তৈরির সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। কোন দিন বিকেল আবার কোন দিন সন্ধ্যার পরে দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। তৈরিকৃত চিতই, বাপা পিঠা, দুধ চিতই, পাটি-সাপটা পিঠা গরম খেতে খুবই মজা। সিদ্ধ চালের গুড়া, আতঁপ চালের গুড়া, ময়দা, নারিকেল, দুধ, চিনি, কালো জিড়া, এলাচি, দারুচিনি ও সয়াবিন তৈল দিয়ে তৈরি হয় এসব পিঠা। ভিন্ন ভিন্ন পিঠার ভিন্ন ভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। স্বাদও বিভিন্ন ধরণের। গরম বাপা পিঠা, চিতই পিঠা ও পাটি-সাপটা পিঠার সাথে তালের গুড়, সরিষা বাটা ও ধনিয়া বেটে স্যুপ তৈরি করে এসব পিঠার সাথে পরিবেশন করা হয়। সূর্যমুখী আর পুলি পিঠা ক্রেতাদের পরিবেশন করা হয় কাচাঁ ধনিয়ার পাতা বেটে স্যুপ করে। কারো কারো আবার চাহিদা অনুযায়ী টমেটো ও তেতুঁলের সস দিয়ে পরিবেশন করা হয়। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাসের যাত্রী, বিভিন্ন স্থান থেকে ঘুরতে আসা অতিথি, ব্যবসায়ী ও চাকুরিজীবিরা এসব মুখরোচক পিঠা কিনে নিচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য অর্ডার দিয়ে পিঠা কিনে নিচ্ছে। শীতের মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৭/৮শ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এ পিঠা থেকে উপার্জন করছে। শীতের ৩/৪ পিঠা বিক্রি করে উপার্জিত টাকা দিয়ে সারা বছরের জীবিকা নির্বাহ করে। রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, বেলালের গরম পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে এবং অনেক সময় বাড়িতেও এ পিঠা কিনে নিয়ে যাই। সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, বেলালের তৈরি পিঠা খেতে স্বাদটাই অন্যদের থেকে একটু আলাদা বিধায় আমি প্রায়ই বাসার জন্য কিনে নিয়ে যাই। সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলে এবং ওর আসবাবপত্রসহ পিঠা তৈরির সকল সরঞ্জামাদি ও বাসনপত্র সবসময় পরিস্কার পরিছন্ন রাখে। এ ব্যাপারে স্ত্রী সাথী জানায়, আমি গ্লাস, প্লেট, কড়াইসহ পিঠা তৈরির সকলকিছু পরিস্কার পরিছন্ন রাখি। এ ব্যাপারে বেলাল বলেন, আমার তৈরিকৃত পিঠা ক্রেতা খেয়ে ভাল বললে আমি আনন্দ পাই। তিনি আরও জানান, ধার দেনা করে এবং এনজিও থেকে লোন নিয়ে তিনি এ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে সকলের সহযোগিতা পেলে এ পেশা তিনি ধরে রাখবেন।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর