,

মরিচ নেই, সিদ্ধ আলুতেই ভরসা

আবু সালেহ সায়াদাত 


ভর দুপুর। দু’পাশের রাস্তায় চলছে গাড়ি। উচ্চস্বরে হর্ন বাজছে চারদিকে। তাতে কোনো খেয়াল নেই। রাজধানীর শেওড়াপাড়া সড়কের মধ্যখানের আইল্যান্ডে রান্নার কাজে ব্যস্ত এক নারী।

ভেজা মাটির চুলা। চুলা ক্ষণে ক্ষণে জ্বলছে। আবার নিভে যাচ্ছে। কাগজের টুকরা তাতে ঠেলে দিয়ে আগুনের তাপ বাড়াতে নিরন্তর চেষ্টা করছেন। আয়োজনেই প্রমাণ মিলছে চুলার চেয়ে তার ক্ষুধার জ্বালা ঢের বেশি। ছোট্র হাঁড়িতে সামান্য চাল দেয়া। ভাতে কি মিলবে তার হদিস নেই।

দুই টুকরো আলু সিদ্ধ দেয়া হয়েছে ভাতে। মরিচের বালাই নেই। ভাত আর আলুর যজ্ঞে উদর পূর্তির এমন আয়োজনে চোখ রাখছেন কৌতূহলী পথচারীও। রাস্তা-ফুটপাত বা সড়কের আইল্যান্ডে যেখানেই-ঘুমানোর সুযোগ পান সেখানেই ঘর, সংসার। নাম তার ফজিলা খাতুন। জেলা কিশোরগঞ্জ হলেও দীর্ঘদিন ঢাকায় থাকেন। পথে পথে ঘুরে বেড়ান। মানুষ কিছু দিলে তা খেয়েই দিব্যি সুখে আছেন।

ব্যস্ত রাস্তার আইল্যান্ডে বসে ভাত রান্নার এমন দৃশ্য দেখে কৌতূহলবশত আলাপ হয় ফজিলা খাতুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ম্যানসে যা দ্যায় তা খাইয়্যাই বাইচ্যা আছি। আজক্যা সারাদিন খাওয়ন নাই। তাই আলু সিদ্ধ দিইয়া ভাত বসাইছি। ট্যাকা নাই তাই মরিচ কিনোন হয় নাই। এর লাইগ্যা সুদা আলু সিদ্ধ দিইয়া ভাত খাওয়ান লাগব।’

ঢাকায় কোথায় থাকেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ফজিলা খাতুন বলেন, ‘শাহআলীর মাজারের দিকে বেশি থ্যাকন পড়ে। আমার মাথা নষ্ট তো তাই এলাকা (কিশোরগঞ্জ) থ্যাইকা ম্যাইনসে খ্যাদায় দিছে। এহন ঢাকায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। যেটিই রাইত হয়, সেটিই ঘুম যাই।’

মেগাসিটি ঢাকায় জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিনই ছুটে আসছে মানুষ। এসব মানুষের মধ্যে অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে, যাদের এই নগরীতে মাথা গোঁজার কোনো স্থান নেই। ঝড়-বৃষ্টি, শীত ও রোদ কাটিয়ে দিচ্ছেন খোলা আকাশের নিচেই। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটানো হতদরিদ্র ছাড়া আরও একদল মানুষ থাকেন, যারা মানসিক ভারসাম্যহীন।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর