,

গ্রাম আদালতের মাধ্যমে টাকা ফিলে পেলেন আমির ফয়সাল

মো: মহসীন খান ♦
গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি আদায় করতে পেরে খুশি আমির ফয়সাল। ৫ মাসে চেষ্টা করেও আমীর ফয়সাল তার পাওনা টাকা আদায় করতে পারছিল না। অবশেষে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অতি সহজেই সেই টাকা আদায় হওয়ায় সে অনেক খুশি। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুবিচার পেয়ে গ্রাম আদালতের প্রতি তার এখন আস্থা অনেক। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সুবিচার পাওয়ার কথা স্থানীয় লোকজনকে বলে বেড়ায়।
বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের চরখালী গ্রামের বাসিন্দা আমির ফয়সাল কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। একই গ্রামের বাসিন্দা এবং আমির ফয়সালের চাচ শাহ আলম খান এক জন পল­ী চিকিৎসক। ৫ মাস আগে শাহ আলম খান দুলাল হাওলাদারকে সাক্ষী হিসেবে রেখে মেয়ের বিয়ের জন্য আমির ফয়সালের কাছ থেকে এক মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা ধার হিসেবে নেন, কিন্তু ওয়াদা অনুযায়ী টাকা ফেরৎ না দেয়ায় দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্ঠি হয়। বিডিন্ন সময়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে শাহআলম খান আজ না কাল করে সময় ক্ষেপন করে। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে তিনি এর বিচার দিলেও কোন কাজ হয়নি বরং তাকে আরো হয়রানি হতে হয়। এ নিয়ে আমীর ফয়সালের সাথে বিরোধ চুড়ান্ত রূপ নেয়। এক দিন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রাম আদালত সর্ম্পকে জানতের পারে। সে বুঝতে পারে যে, সুবিচার পেতে হলে গ্রাম আদালতে যেতে হবে। এর পর গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখ আমীর ফয়সাল মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আসেন এবং গ্রাম আদালতের সহকারীর নিকট বিস্তারিত খুলে বলেন। ন্যায় বিচারের আশায় এবং পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য শাহআলম খানকে প্রতিবাদী করে দেওয়ানী মামলা করার আবেদন করে। মোকামিয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব মোঃ মাহবুব আলম সুজন মলি­ক নথিপত্র পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মামলাটি গ্রহন করেন। মামল দয়েরের পর ইউনিয়ন পরিষদ ২ অক্টোবর উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেন। সময়মত হাজির হলেও নিজের মধ্যে কোন আপোষ মিমাংসা না হলে গ্রাম আদালতের আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। উভয় পক্ষের দুজন করে সদস্য এবং সাক্ষী মনোয়য়ন দেওয়া হংয়। লিখিতি আপত্তির নির্দেশ প্রদান সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া চলার পর ২৩ অক্টোবর গ্রাম আদালতের প্রথম শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে উভয় পক্ষই তাদের বক্তব্য প্রদান করে। শুনানীর পর্যালোচনায় এই প্রতিয়মান হয় যে, প্রতিবাদী শাহআলম খান আবেদনকারী আমীর ফয়সালের কাছে থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে ধার হিসেবে যা তিনি পরিশোধ করছেন না এবং বারবার তাকে হয়রানী করছে। আদালতে প্রতিবাদী অপরাধ স্বীকার করেন। পরে আদালতে সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবাদী শাহআলম খান মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদে সম্পূর্ণ টাকা জমা দেন। পওে আবেদনকারী আমির ফয়সালকে উক্ত টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আমীর ফয়সাল যখন হন্য হয়ে চিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিল তখন গ্রাম আদালতের মাধ্যমে অতি সহজেই তার পাওনা টাকা আদায় হল। বিষয়টি এলাকার ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষক আমীর ফয়সাল বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে এত তারাতাড়ি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মাত্র ২০ টাকায় তার পাওনা টাকা আদায় করতে পারবে। পাওনা টাকা দিয়ে আমির ফয়সাল একখন্ড জমি কিনেছেন বলে জানা গেছে। গ্রাম আদালতের প্রতি তার বিশ্বাস রেড়েছে অনেক।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর