,

বেতাগী হাসপাতালের প্রধান সহকারি ও হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ♦

বরগুনা বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারি ও হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎক ও কর্মচারিরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন হাসপাতাল পরিদর্শন কালে উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব তথ্য বেরিয়ে আসলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দুজনকেই স্বেচ্ছায় বদলী হওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। হাসপাতালের ভুক্তভোগী কর্মচারীরা অভিযোগ করেন দীর্ঘ ৯বছর যাবৎ প্রধান সহকারি আসাদুজ্জামান নাসির ও হিসাব রক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে করতে থাকেন। কর্মচারীদের প্রতি দুর্ব্যবহার, তাদের নামে আসা কাগজপত্র গোপন করে হয়রানী, এনসিডি প্রশিক্ষন, কমিউনিটি ক্লিনিকের অনুকুলে বরাদ্দকৃত মাতৃদুগ্ধ দিবসের টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ভুক্তেভোগীদের। এবছরের ৭ এপ্রিল স্বাস্থ্য দিবস পালন না করে ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন দিবস পালন না করা, কৌশলে চিঠি গোপন করে প্রশিক্ষনের নামে কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা আদায়, ২০১৭ সালের হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল কল্যান সহায়তা ফান্ডের ফুল বাগানের বরাদ্ধকৃত ৪ লাখ টাকাও আত্মসাতের অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক কর্মচারী। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কর্মচারীরা। এদিকে অফিস সহায়ক সাইদুল ইসলাম ৫ মাস হাসপাতালে অনুপস্থিত থেকেও প্রধান সহকারি আসাদুজ্জামান নাসিরের সহযোগীতায় নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এবিষয়টি অবগত হয়ে সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন শহিদুলের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।
বেতাগী হাসপাতালের অনিয়ম তদন্ত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটির প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন জমা দিলেও রহস্যজনক কারনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের দুর্নীতি। এসব অভিযোগের কথা অস্বীকার করে একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারি আসাদুজ্জামান নাসির বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। অত্র হাসপাতালের হিসাব রক্ষক রফিকুল ইসলাম আমার কিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। হিসাব রক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে কোন ফাইল দেয়া হয় না সব কিছু প্রধান সহকারি আসাদুজ্জামানের দায়িত্ব সেহেতু এসব অনিয়ম আমার দ্বারা করা সম্পুর্ন অসম্ভব। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাকিল তানভীর বলেন, এ বিষয়ে সিভিল সার্জন স্যারের অবহিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মো, হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, এমপি মহোদয় দুইজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন আমি ডাইরেক্টর স্যারকে অবহিত করব।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর