,

বেতাগীতে গলাকাটা আতঙ্কে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি হ্রাস

মো: রিয়াজুল হক সিকদার ♦
বরগুনার বেতাগীতে ছড়িয়ে পরেছে গলাকাটা আতঙ্ক। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে এসেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।
উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সকল হাট-বাজার, পথে প্রান্তরে বিভিন্ন চায়ের দোকানসহ সর্বত্রই এখন একই আলোচনা। এ উপজেলার ১২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি হ্রাস পেয়ে অর্ধেকে নেমে আসছে। কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান, পাবন, বাধন, ২য় শ্রেণির সফিকুল ফাহিম, ৩য় শ্রেণির তাহিয়া সহ অনেক শিক্ষার্থী এমনই তথ্যই দিয়েছে। তারা গলাকাটার ভয়ে স্কুলে নিয়মিত আসছে না। কেওড়াবুনিয়া কবি নজরুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সুরমা আক্তার বলেন, আমার বাচ্চাদেরকে আজ তিনদিন পর্যন্ত স্কুলে যেতে দেই না গলা কাটার ভয়ে। বেতাগী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অভিভাবক মো: কামরুজ্জামান জামাল বলেন, আমার ২য় শ্রেনীর ছেলেকেও তিনদিন যাবৎ স্কুলে পাঠাচ্ছি না। শিশু শ্রেণির অভিভাবক মো: মনির হোসেন, লাইজু আক্তার, মঞ্জু আকতার, মো: আলআমিনসহ অনেকেই জানান, কবে হবে গলাকাটা আতঙ্ক শেষ শিশুদের নিয়ে বড়ই চিন্তায় রয়েছি। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: রুহুল আমিন সোহেল জানান, গলাকাটার খবর যে গুজব তা বলেও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করতে পারছি না। স্কুলে শিক্ষার্থী কমছে দিনদিন। খোন্তাকাটা লক্ষ্মিপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব দাস বলেন, গুজবের এ আতঙ্কে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বললেও কোন কাজ হচ্ছে না। কোন কোন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী আসেই না। এমনই অভিযোগ ভোড়া কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট মোকামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝিলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের। মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই বেশী আতঙ্কের বিরাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা একটি গুজব মাসিক সমন্বয় সভায় আমি বিষয়টি সকল প্রধান শিক্ষকদের অবহিত করব।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর