,

বেতাগীতে সন্তানের মা হলেন কিশোরী, প্রেমিকার অস্বীকার


মো: শামীম সিকদার ♦
বরগুনার বেতাগীতে এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিশোরী। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ধর্ষক আক্কাস বেপারীকে সন্তানকে মেনে নিচ্ছে না। মামালা করেও কোনো ফয়সালা পায়নি।
জানা যায়, উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিন হোসনাবাদ গ্রামের পিতাহারা ভিখারী মায়ের কন্যা ও হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিক বার ধর্ষণ করে একই বাড়ির কালাম বেপারীর পুত্র আক্কাস বেপারী। কিছুদিন পর কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে ঐ কিশোরী চার মাসের অ’ন্তঃসত্ত্বা বলে জানতে পারে পরিবার। কিশোরীর অ’ন্তঃসত্ত্বার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ধর্ষক আক্কাকে কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ দিলে আক্কাস বিয়ে করতে অপারগতা প্রকাশ করে। পরে প্রভাবশালীমহল থেকে টাকার বিনিময়ে বি’ষয়টি সমঝোতা করার জন্য কিশোরীর পরিবারকে প্রস্তাব আসে। এতে কিশোরীর পরিবার অসম্মতি জানান এবং ন্যায় বিচারের জন্য ১২ জুন ২০১৯ তারিখ বরগুনা বিজ্ঞ নারী ও শিশু নি’র্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালদ মামলা আমলে নিয়ে উক্ত মামলা এফআইআর করার জন্য বেতাগী থানাকে নির্দেশ দেন। বেতাগী থানা আদালতের নির্দেশে ২৫ জুন ২০১৯ তারিখ মামলাটি এফআইআর করেন। মামলার খবর পেয়ে ধর্ষক ও আ’সামী এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। আসামীরা অ’ন্তঃসত্ত্বা কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে কিশোরীর পরিবার জানান। কিশোরীর পরিবার থেকে বেতাগী থানায় অভিযোগ করেন।
এরমধ্যে ২৮ আগষ্ট বুধবার রাতে ধর্ষিতা কিশোরী নিজ বাড়িতে পুত্র সন্তানের মা হন। এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বাজীব আহসান কিশোরীর বাড়িতে যান। তিনি নবজাতকের শারিরিক অবনতি দেখে সন্তানসহ মাকে এনে বেতাগী হাসপতাল ভর্তি করে দেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন। এ সময়ে ইউএনও নবজাতকের নাম রাখেন মূছা। সন্তানসহ কিশোরী হাসপতালে ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় উপজেলা চেয়ারম্যান মো: মাকসুদুর রহমান ফোরকার তাকে দেখতে হাসতালে যান এবং উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে থেকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরে ভারতে অবস্থানরত বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির’র নির্দেশে পৌরসভার পক্ষ থেকে পানেল মেয়র বরুন কৃষ্ণ কর্মকার ৫ হাজার প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাক্তিবর্গ কিশোরীকে সহযোগিতা করছেন।
হাসপাতালের বিছানায় সন্তান কোলে কিশোরী বলেন, আমার সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাই। আক্কাস আমাকে বিয়ে করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছে। এখন বাহানা করছে। যেদিন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলাম সেদিনও আমাকে মারার জন্য আমার ঘর দরজা কুপিয়েছে আক্কাসের বাবা কালাম বেপারী। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে তারা আমাদের এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, না পেলাম স্ত্রীর মর্যাদা তারপরও সন্তানের মা। আমি আর কিছু চাই না আমার সন্তানের পরিচয় চাই এ বলে চিৎকার দিয়ে কেঁদে ফেলেন কিশোরী। যে বয়সে টিফিনের বক্স নিয়ে দৌড়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সেই এক পুত্র সন্তানের জননী এই তরুণী। এক কথায় বলা যেতে পারে শিশুর কোলে শিশুর জন্ম। তবে নিস্পাপ শিশুটি যেন পিতৃপরিচয় পায় এমটাই দাবী পুরো এলাকাবাসীর। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্ষক আক্কাসের বাবা কালাম বলেন, আমা’র মানসম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এলাকার একটি কৃচক্রীমহল এমন অবান্তর অভিযোগ ছড়াচ্ছে। হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, আমরা স্থানীয় ভাবে ঘটনার পর থেকেই ছেলে কর্তৃক মেয়েকে বিবাহের জন্য বলেছি। ছেলে পলাতক রয়েছে এবং মামলা বিচারাধীন থাকায় কোনো ধরণের মীমাংশা করানো সম্ভব হয়নি। বেতাগী থানার উপ পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: জাহিদ হোসেন মিয়া বলেন, আসামী গ্রেফতারের জন্য তার মোবইল ট্রাকিং করা হচ্ছে। অবস্থান সনাক্ত করতে পারলেই তাকে গ্রেফতার করা হবে।

নবজাতক মূছা’র লালন পালনের জন্য ফোকাস নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’র পক্ষ থেকে সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই তহবিলে অার্থিক সাহায্য করার জন্য সমাজের হৃদয়বান লোকজনের কাছে বিনীত অনুরোধ রইল। সাহায্য পাঠানোর বিকাশ নম্বর ০১৭১৬২৬৫৩২৯ (পারসোনাল)

 

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর