,

বেতাগীতে ঝাঁর ফুকেঁর নামে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ♦
বরগুনার বেতাগীতে ঝাঁর ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ার অজুহাতে এক কিশোরীকে ধর্ষনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ অভিযোগ উপজেলার চিবিচিনি ইউনিয়নের দেশান্তরকাঠী গ্রামের নারায়ন চন্দ্র শীলের পুত্র লক্ষী চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে। যুবলীগ ক্যডার ভাই রবি চন্দ্র শীলের চাপে থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
জানাগেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে চিবিচিনি ইউনিয়নের দেশান্তরকাঠী গ্রামের এক কিশোরীকে ঝারঁ ফুকঁ দিয়ে চিকিৎসার অজুহাতে কিশোরীর ঘরের পিছনের কক্ষে নিয়ে যায়। এ সময়ে সামনের কক্ষে থাকা কিশোরীর মায়ের সন্দেহ হয়। কিছুক্ষন পরে দেখে কিশোরীকে চিকিৎসার নামে তার স্পর্শকাতর বিভিন্ন যায়গায় স্পর্শ করে মুখ চেপে ঝাপটে ধরে। এ অবস্থা দেখে কিশোরী ও তার মা চিৎকার করলে লোকজন আসার পুর্বেই লক্ষী চন্দ্র শীল পাালিয়ে যায়। ঘটনা জানা জানির পরপরই লক্ষির ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এলাকায় ক্যাডার নামে পরিচিত রবি চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে কতিপয় যুবক ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ না দেওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং প্রান নাশের হুমকি দেয় বলে জানান অসহায় কিশোরীর গরিব বাবা।
এদিকে এলাকার অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান নারায়ন চন্দ্র শীলের তিন ছেলে দির্ঘদিন যাবৎ এলাকায় ঝাঁর ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার নামে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত এবং নিরীহ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এ বিষয়ে বিবিচিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওয়াব হোসেন নয়ন খান বলেন ঘটনার পরে ইউপি সদস্য ছত্তার মল্লিক, রিয়াজ হোসেন, আলমগীর হোসেন ও বেতাগী থানার উপ পরিদর্মক আমিনুল ইসলামসহ ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। বিচারের জন্য বৈঠকে বসলেও লক্ষীচন্দ্র শীল ও তার ভাই রবিচন্দ্র শীল সেখানে না আসায় বিচার করা সম্ভব হয়নি। এ দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মৃধার নেতৃত্বে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ নাকরার শর্তে সমাজ সচেতন এলাকার অনেকেই। তার বলেন এলাকায় এর যদি বিচার না হয় সমাজে অপকর্ম বেড়েই যাবে। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মৃধা বলেন, সমঝোতার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ইউপি সদস্য আব্দুস সত্তার মল্লিক বলেন, এরা এলাকায় সন্ত্রাস করে বেড়ায় মেম্বার চেয়ারম্যান এদের কোন কাজে লাগে না। বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন শনিবার ভুক্তভোগীর বাবা ও মা থানায় এসেছিল লিখিত অভিযোগ নিয়ে। অভিযোগ পত্রটি কাঁটাছিড়া থাকায় কম্পিউটার করে আগামিকাল জমা দিবে বলে গিয়েছে। অভিযোগ পেলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিব। স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের চাপে সমঝোতা করতে বাধ্য হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন সমঝোতা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর