,

রহস্য বাড়ছে মুনিয়ার মৃত্যু নিয়ে

ফোকাস নিউজ ডেক্স >>
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যু ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মুনিয়ার পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন, তাকে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, সব ধরনের আলামত এবং পারিপাশির্^ক ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আলামত হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে মুনিয়ার মোবাইল, ছয়টি ডায়েরিসহ অনেক কিছুই। মুনিয়ার ফ্ল্যাটে কে কে যাতায়াত করতেন ফুটেজ দেখে তা জানার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ডায়েরিগুলোতে কী লেখা আছে, সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই চলছে।

যা বলছে মুনিয়ার পরিবার
মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান অভিযোগ করেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছিল। একটি ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সায়েম সোবহান তার বোনের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তাদের ধারণা, মুনিয়া আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। নুসরাত বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর কাছে বোনের অপমৃত্যু এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। মুনিয়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, তাহাজ্জুদ পড়ত। পাঁচ ওয়াক্ত যে নামাজ পড়ে সে কীভাবে সুইসাইড করে? সে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমার মনে হচ্ছে এটা হত্যা। যদি সুইসাইড করেও থাকে এমন কিছু অপমানজনক করা হয়েছে যা সে নিতে পারেনি। এখানে অনেক সিন্ড্রোম ছিল, যে মার্ডার করা হয়েছে। আমরা তো তাকে ঝুলন্ত পেয়ে আত্মহত্যা ভাবছি। পরে মাথায় এলো একটা মানুষ যদি ঝুলে যায়, তার পা ছটফট করে তাহলে বেডে একটা সিট সাজনো ছিল। সিটটা নিচে পড়ে যাওয়ার কথা।’ নুসরাত বলেন, ‘পুলিশ আসার পর আমরা রুমে গিয়ে দেখলাম ও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু তার পা বিছানায়। পা দুটি হালকা বাঁকানো। অথচ বিছানা খুব পরিপাটি ছিল, বিছানায় যদি সেই শুইত বা উঠে দাঁড়াত একটু সিন্ড্রম তো থাকার কথা-তাই না। কিন্তু সেটা ছিল না, সবকিছু খুব পরিপাটি ছিল। একটা সিট ছিল, সেটাও পরিপাটি ছিল। পরে পুলিশ ওরে নিচে নামায়।’

মুনিয়া আগেই বিপদের আভাস দিয়েছিল উল্লেখ করে তার বোন বলেন, ‘সোমবার সকালে ওর সঙ্গে আমার ফোনে শেষ কথা হয়। ওর কান্নায় আমার ঘুম ভাঙে। ও ফোন দিয়ে বলে, আপু আনভীর আমাকে ধোঁকা দিছে। আপু আমি অনেক বিপদে আছি, তুমি তাড়াতাড়ি বাসায় আসো। আমি তাকে বোঝাই, বলি তুমি রেডি হও, তোমাকে আপু এসে নিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা নিয়া আসব, পরে বলে যে আমি তো তোমার সঙ্গে অভিমান করে চলে আসছি, এখন কীভাবে আসব। ওর লজ্জা কাজ করছিল তো আমি ওকে নরমাল করি। পরে ১১টার দিকে সে আমায় আবার কল করে বলে আপু আমার অনেক বিপদ তুমি কখন আসবা যেকোনো সময় কিছু একটা হয়ে যাবে আপু।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাওয়ার পর ওরে অনেকবার কল করেছি ও ধরেনি। সেখানে গিয়ে কল করে যখন ওকে পাচ্ছিলাম না তখন বাসার মালিকের ওয়াইফকে কল করি। সে জানায় এক্সট্রা কোনো চাবি নেই। পরে মালিক আমাকে পরামর্শ দেন মিস্ত্রি এনে তালা ভাঙার। যখন তালা ভাঙছি তখনো ওর কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা ভয় পাই। ও কোনো রেসপন্স করছে না, আমরা ভয় পাচ্ছি কী হচ্ছে কী হচ্ছে, তালা ভেঙে দেখি ও ঝুলন্ত। এরপর পুলিশকে কল করি, ইফতারের পর পুলিশ আসে।’

কারও অপরাধ থাকলে বিচার হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় কারও অপরাধ থাকলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি স্পষ্ট…. আইন অনুযায়ী আইন চলবে। যে অপরাধী হয়, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে, বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তবে বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, শেষ হলেই এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’

পুলিশ যা বলছে
ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারের পর সেখান থেকে তার মোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি ছয়টি ডায়েরিও পাওয়া যায়। এসব ডায়েরিতে কী লেখা আছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া ওই ফ্ল্যাটে তরুণীর একা থাকার কথা বলা হলেও কে কে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকত তা জানার জন্য ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ডায়েরির সঙ্গে সেগুলো যাচাই চলছে।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য। আপাতত হ্যাংগিং মনে হলেও প্রতিবেদন থেকে জানা যাবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে। এরপরই তদন্তের গতি নির্ধারণ হবে। এখন আমরা এভিডেন্স কালেকশন করছি।’

কী আছে মুনিয়ার ছয় ডায়েরিতে
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুনিয়া তার ছয়টি ডায়েরিতে জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাপ্রবাহ লিখে গেছেন। এতে তিনি লিখে রেখে গেছেন কীভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, কীভাবে তাদের মধ্যে প্রণয়। শুধু তাই নয়, একপর্যায়ে মুনিয়ার লেখায় তার প্রেমিকের প্রতি তীব্র অভিমান ও ক্ষোভের প্রকাশও ঘটে। সূত্র আরও জানায়, ডায়েরির একটি পাতায় মুনিয়া লিখেছেন, ‘আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়েছে। আগামীকাল ভোরে এসে তুমি আর আমাকে আর পাবে না।’

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর