,

আগামীকাল খুলছে বেতাগীর ২৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক ♦
মহামারী করোনা সংকটের কারণে টানা ১৮ মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতেও সরকারি নির্দেশনায় আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর রোববার খুলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপযোগী করতে ঝোঁপঝাড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, শ্রেণি-কক্ষ ধোয়া-মোছাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণে গত বছর ১৮ মার্চ থেকে সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর অন লাইনে পাঠদান শুরু হলেও সারাদেশে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নানা কারণে অন লাইনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এরই মধ্যে কয়েক দফা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংক্রমণ না কমার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সরকারি সিদ্ধান্তে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা দেওয়ায় উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান খুলতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বেতাগী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, বেতাগী পাইলট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বেতাগী গার্লস এন্ড কলেজ, বিবিচিনি স্কুল এন্ড কলেজ, কাজীর হাঁঁট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝোপখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫৮টি মাদ্রাসা, ৭টি কলেজ ও ১০টি কেজি স্কুল খোলার প্রস্তুতি শেষ করেছে। সবগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন, শ্রেণি কক্ষপরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা, প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরের ভেতর ও বাহিরের ঝোঁপঝাড়ও পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। অফিস, শিক্ষক কক্ষ ও প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গন সবই জীবাণু নাশক ছিটিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বেতাগী মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারি সন্বয়ে সর্ব শেষ প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির তার কক্ষে সভা করেন। সভায় বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির, বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুল ইসলাম মন্টু সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির জানান, সরকারি ঘোষণার পর বিদ্যালয়কে জীবাণুমুক্ত করে শিক্ষা উপযোগী করে রাখার জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিসহ স্কুলের পক্ষ থেকে মাক্স, হ্যাণ্ডসেনিটাইজার, জ্বর মাপার যন্ত্র ও ১টা আলাদা আইসোয়েলেসনের জন্য কক্ষ ঠিক করে রেখেছেন। পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবিরও শিক্ষকদের নানা দিকনিদের্শনা দেন।
এ বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতিষ্ঠান খুলতে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে পালনে দেখভাল করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুহৃদ সালেহীন জানান, প্রতিষ্ঠান খুলতে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। তবে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পরিচালিত হয় কিনা তা দেখতে উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি রাখবে।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর