,

বিষখালী নদীতে বেতাগী-কচুয়া পয়েন্টে ফেরী স্থাপনে মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদন

মো. শামীম সিকদার ♦
বরগুনার বেতাগী উপজেলার পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ-বেতাগী-কচুয়া মহাসড়কে বিষখালী নদীতে বেতাগী-কচুয়া ফেরী স্থাপনের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের বৈঠকে নিতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফেরি চালানোর জনবল সংক্রান্ত কিছু তথ্য চেয়েছে এ কমিটি। এসব তথ্য পেলেই ফেরী স্থাপনের চুড়ান্ত অনুমোদ দেয়া হবে।
বুধবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মালেক’র সভাপতিত্বে এক টেকনিক্যাল কমিটির সভায় বিষখালী নদীতে বেতাগী-কচুয়া ফেরী স্থাপনের জন্য এ অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে ৪ অক্টোবর এ সংক্রান্ত সভা আহবান করেন এ বিভাগের উপসচিব ফাহমিদা হক খান।
জানা যায়, বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, বেতাগী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির ও শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাহমুদ হোসেন রিপন’র যৌথ প্রচেষ্টায় পটুয়াখালী-মির্জাগঞ্জ-বেতাগী-কচুয়া মহাসড়কের বেতাগী-কচুয়া পয়েন্টে বিষখালী নদীর উপর ফেরী স্থাপন প্রকল্প প্রশাসনিক অনুমোদনের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। এখন বাংলাদেশ আভ্যন্তরিন নৌ-পরিরহন কর্তৃপক্ষ থেকে বিষখালী নদীর গভীরতা নিরুপন প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। বেতাগী-কচুয়া পয়েন্টে বিষখালী নদীর গভীরতা নিরুপনের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ফেরী প্লানিং সার্কেলের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস ২৬ আগষ্ট ২০২১ তারিখ বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌ-পরিরহন কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের পরিচালক কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে নদীর গভীররতা নিরুপন তথ্যেরে অভাবে বেতাগী-কচুয়া ফেরী স্থাপনের প্রশাসনিক অনুমোদন বন্ধ রয়েছে।
বেতাগীর সর্বস্তরের জনগনের দাবীর পেক্ষিতে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন, পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব এবিএম গোলাম কবির ও শৌলজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন রিপন’র যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৫ সালে ডিসেম্বর মাসে বেতাগী-কচুয়া ফেরী স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়। ১৩ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগরে ননগেজেটেড সংস্থাপন এনটিআর অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মাদ রফিকুল করিম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে মতামত প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। সড়ক ও সজপথ অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান ২৮ আগষ্ট ২০১৮ তারিখ উক্ত চিঠির ইতিবাচক জবাব দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরণ করেন। পরে ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ বিষখালী নদীর উপর বেতাগী-কচুয়া পয়েন্টে ফেরী স্থাপনের সম্ভব্যতা যাচাই প্রতিবেদন সড়ক ও সজপথ অধিদপ্তরের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান স্বাক্ষর করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঢাকার সড়ক ভবনের ফেলী প্লানিং সার্কেলসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে চিঠি প্রেরণ করেন। তাই এখন প্রয়োজন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ও ঝালকাঠী-১ আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন’র যৌথ উদ্যোগ। তাহলে এত দিনের চেষ্টা সফল হবে এবং দু’পাড়ের জনগনের প্রাণের দাবী বাস্তবায়ন বলে এলাকার জনগন মনে করেন।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর