,

স্বামী হাসপাতালে স্ত্রী নিখোঁজ

মো: শামীম সিকদার ♦
স্ত্রী জাহানারা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিন দিন আগে ঢাকা নিয়ে ঢাকা গিয়েছিলেন স্বামী মো: সেলিম মিয়া। স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হলেও স্বামী নিজেই ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটটে মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন কিন্তু পাশে নেই প্রিয়তম স্ত্রী। শুধু স্বামীর পাশে নয় কোথায় আছে কেউ জানে না। জীবিত না মৃত্যু তাও বলা যাচ্ছে না। অভিযান লঞ্চে অগ্নিকান্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
স্ত্রী জাহানারা বেগমের চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বরগুনাগামী লঞ্চ অভিযান-১০ এ করে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁরা। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে সেদিন রাত ৩টায় লঞ্চে অগ্নিকান্ডে স্বামী সেলিম মিয়া মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়। এ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছেন তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষিকা জাহানারা আক্তার। সেলিম মিয়াকে প্রথমে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনরতি হলে তাকে এয়ার এম্ভুলেন্সযোগে ঢাকায় নিয়ে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটটে ভর্তি করা হয়।
সেলিম মিয়ার বাড়ি বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের দেশান্তরকাঠী গ্রামে। তার স্ত্রী জাহানারা বেগম পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর কিসমত শ্রীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।
জাহানারা আক্তারের বড় ভাই সত্তার হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছয় ভাইবোনের মধ্যে জাহানারা সবার ছোট। দুই বোন ও এক ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। বোনদের মধ্যে জাহানারা একাই জীবিত ছিলেন। সাত-আট বছর আগে বেতাগীর সেলিম হাওলাদারের সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পরই স্বামী (সেলিম হাওলাদার) সৌদি আরবে চলে যান। চার থেকে পাঁচ মাস আগে সেলিম সৌদি আরব থেকে বাড়িতে আসেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। ২০ ডিসেম্বর চিকিৎসার জন্য তাঁরা ঢাকায় যান। চিকিৎসা শেষে সেদিনই তাঁরা বাড়িতে ফিরছিলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম মিয়া বলেন, ‘দোতলায় লঞ্চের ডেকের একটি জায়গায় আমরা (স্বামী-স্ত্রী) বিছানা করে ছিলাম। দুর্ঘটনার সময় আমি টয়লেটে গিয়েছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে টয়লেট থেকে বের হয়ে দেখতে পাই শুধু আগুনের লেলিহান শিখা। আগুনের মধ্যেই লঞ্চের পেছন থেকে নদীতে ঝাঁপ দেই। ওই সময় স্ত্রী জাহানারা বেগম বিছানায় ছিল। এখন সে (জাহানারা) কোথায় আছে কিছুই জানি না।’

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর