,

কাউন্সিলর রোফেজা রুজির বিরুদ্ধে শিউলি বেগমের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ♦
বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ২নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মহিলা তাবলীগ জামাতের পীর মা রোফেজা আক্তার রুজির বিরুদ্ধে এক ভক্তের সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা আত্বসাৎ করার অভিযোগ যাওয়া গেছে।
বেতাগী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের শিউলি বেগমের স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। কয়েক দফা শালিশী বৈঠকের পর মাত্র দেড় লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে কাউন্সিলর রোফেজা আক্তার রুজি। বাকী ১৪ লক্ষ টাকা আদায়ের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুড়ছে শিউলি বেগম।
জানা যায়. পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের খান বাড়ির মরহুম দেলোয়ার আলী খানের একমাত্র সন্তান শিউলি বেগম বাবার ঘরেই বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। একই বাড়ির মো: মামুনুল ইসলাম খান’র স্ত্রী রোফেজা আক্তার রুজির এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মহিলারদের দিনের পথে আনার জন্য কথিত তাবলীগ জামাত করতেন। সাথে নিয়ে যেতেন সনদ শিউলি বেগমকে। এভাবে তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। অশিক্ষিত শিউলি বেগম রুজিকে একজন পরহেজগার মহিলা হিসেবে খুবই বিশ^াস করতেন। এর মধ্যে রুজি, শিউলি বেগমকে ঘর, জমি ও বাগানসহ সকল জমি বিক্রি করে তার স্বামীর বাড়ি নতুন ঘর তোলার পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ মত শিউলী বেগম একই বাড়ির শাহজাহান খানের মেয়ে পলি বেগমের কাছে তার প্রাপ্য ১০ শতাংশ জমি এবং টিনের ঘর সাড়ে ৬ লক্ষা টাকা বিক্রি করেন। শিউলি বেগম এ টাকা আপাপত পোষ্ট অফিসে জমা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের কথা শুনে রুজি তাকে পরামর্শ দেন. টাকা পোষ্ট অফিসে না রেখে এ টাকা তাকে এবং তার স্বামী মো: মামুনুল ইসলাম খান’র ব্যবসায় দিলে মাসে ৩ হাজার টাকা হাওে লভ্যাংশ দেয়া হবে। পীর মা রোফেজা আক্তার রুজির এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।
প্রস্তাবমতে ৯ মে ২০১৮ তারিখ প্রথম দফায় ফোফেজা আক্তার রুজি এবং তার স্বামী মো. মামুন-উল-আলম ৩শত টাকা নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে লিখিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে শিউলি বেগমের কাছ থেকে ৫লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। দ্বিতীয়দফায় ২১ ফেরুয়ারি‘২০১৯ তারিখ তারা একইভাবে শিউলী বেগমের কাছ থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। এ টাকায় লভ্যাংশ ও আসল মিলে মোট ১৪ লক্ষ টাকা তাদের কাছে পাবেন শিউলি বেগম। বেসরকারি সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রে শিউলী বেগমের নামে ৩ হাজার টাকার একটি ডিপিএস করে দেন তার ছোট ছেলে সজিব। শিউলী বেগমকে জামিনদার করে রোফেজা আক্তার রুজি পদক্ষেপ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। জামিনদার করার সময় রোফেজা আক্তার রুজীর ও স্বামী মো. মামুন-উল-আলম ঋণ উঠাতে লাগার মিথ্যা কথা বলে শিউল বেগমের কাছ থেকে তার অগ্রণী ব্যাংক হিসেবের ৪টি চেকে স্বাক্ষর দেন। সহজ-সরল অন্ধ বিশ^াসী শিউলী বেগমের চেক রুজীর কাছেই থাকত। ঋণ গ্রহণ করার পর মাত্র ৯১ হাজার টাকা পরিশোধ করে কিস্তি দেয়া বন্ধ করে দেয়া রুজি পরে পদক্ষেপ কতৃপক্ষ শিউলী বেগমের ডিপিএস থেকে বাকী সুদ-আসল ১ লক্ষ ৯ হাজার কেটে নেন।
রুজী দম্পত্তির লোভ এখানেই শেষ নয় বেসরকারি সংস্থা আরডিএফ থেকে ঋণ গ্রহণ কালে সেখানেও জামিনদার করেন শিউলী বেগমকে। এখানেও শিউলী বেগমকে ১০ হাজার টাকা দিতে হয়। সব মিলিয়ে ১৫ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা রুজী দম্পত্তির কাছে পাওনা হয় শিউলী বেগমের। এসব লেনদেন কাউকে জানাতে বারণ করেন রুজী দম্পত্তি। প্রথমদিকে শিউলী বেগম কাউকে না জানালেও টাকা না পেয়ে বাড়ির লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে কয়েকদফা শালিসী বৈঠকে বসার পর দেড় লক্ষ টাকা শিউলী বেগমকে ফেরত দেয় এবং বাকি টাকা এবং স্বাক্ষর করা চেকের পাতা ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করে কিন্তু এক বছরে তারা পরিশোধ করছেন না। তারা শালিসদারদের কথাও তারা কর্ণপাত করেন না।
এ বিষয় পৌর কাউন্সিলর ও কথিত মহিলা তাবলীগ জামাতের পীর মা রোফেজা আক্তার রুজি শিউলী বেগমের সাথে আর্থিক লেনদেন ও এ নিয়ে কয়েকদফা শালিসী বৈঠকে কিস্তীতে টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হলেও শিউলী সংবাদ সম্মেলন করায় তাকে আর একটাকাও দেওয়া হবে না। যা করার করুক।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর