,

বরগুনায় ঘুষ দিয়ে চাকুরি | বেতন ছাড়াই দু’বছর

মো. শামীম সিকদার ♦
বরগুনায় আল-বারাকা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ৫৪৩ জন কর্মী প্রায় দু’বছরে বছরেও বেতন পায়নি। বেতন না পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে তারা মানবেতন জীবন যাপন করছেন। এদের চাকুরি দেয়ার সময় জামানতের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, শেরপুর ভিত্তিক এনজিও আল-বারাকা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-এবিডিএফ জলবায়ু পরিবর্তনে গাছের সাহায্যে বায়ু মন্ডলে কার্বন হ্রাস করণের নিমিত্তে বেইজ লাইন সার্ভে পরিচালনার লক্ষে ২০ জেলায় কাজ শুরু করে। ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে এবিডিএফ’র বরগুনায় কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে লোভনীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতি ইউনিয়নে ৭জন এবং এরিয়া অফিসে ৪ করে কর্মী নিয়োগ দেয়। সারা বরগুনাকে একটি অঞ্চল ও ৩টি এরিয়ায় ভাগ করে ৪৩ টি ইউনিয়নে মোট ৫৪৩ জন কর্মী নিয়োগ দেয়। কর্মীদের মধ্যে আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, এরিয়া ইনচার্জ, ইউনিট ইনচার্জ, সুপারভাইজার, প্রশিক্ষক, অফিস সহাকারী, হিসাব রক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, মাঠ কর্মী ও অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের শর্তানুযায়ী প্রত্যেক কর্মীতে জামানত বাবাদ ১২ হাজার এবং অফিস খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে ১ জানুয়ারী ২০১৬ তারিখ তাদের নিয়োগ পত্র দেয়। প্রথমে আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও এরিয়া ইনচার্জ নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগকৃত কর্মীদের কাছ থেকে জামানত ও অফিস খরচ বাবাদ ৮১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। জামানত ছাড়াও ঘুষ হিসেবে প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে আরো ২০-৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এসব টাকা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. নজরুল ইসলাম মন্টু, এরিয়া ইনচার্জ মো. আতিকুর রহমান ছগির, মো. মহিউদ্দিন ও মো. ইসমাইল সিকদার’র মাধ্যমে এবিডিএফ’র সহকারী প্রকল্প পরিচালক (মানব সম্পাদ) মো. নাজমুল হক তালুকদার গ্রহণ করেন।
নিযোগকৃত মাঠকর্মীরা শুরু থেকে কাজ করে আসলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোন প্রাকারের বেতন ভাতা দেওয়া হয়নি। উপজেলা পর্যায়ে কোন অফিস না থাকায় তাদের জেলা শহরে গিয়ে কাজ করতে হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে আত্মগোপন করেছে। মাঠকর্মীরা ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করছে না। প্রায় দু’বছর বেতন ভাতা না পেয়ে কর্মীরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দারুন কষ্টে জীবন যাপন করছে। হতাশায় ভুগছে এসব কর্মীরা। বেতাগী উপজেলার ভুক্তভোগী মাঠকর্মী সঞ্জয় চন্দ্র দেবনাথ বলেন, আমরা বেকার ছেলে মেয়েরা জামানত দিয়ে এখানে চাকুরি নিয়েছি বেতনের আশায়। আমারা চাকুরির নিশ্চয়তাসহ বেতন ভাতা পেতে চাই এবং এ প্রতারনার বিচার চাই। ফোকাস নিউজ’র কাছে এ রকম ক্ষুব্ধ অভিযোগ করেন একই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কামরুজ্জামান জামাল, মো. হারুন-অর-রশিদ, মো. জাহিদ হাসান রিগান ও সোনিয়া আকতার।
এ বিষয়ে এরিয়া ইনচার্জ মো. আতিকুর রহমান ছগির বলেন, মাঠকর্মীদের মত আমিও বেতন পাচ্ছিনা। তাদের কাছ থেকে জামানত বাবাদ আদায়কৃত টাকা আমি নাজমুল সাহেবকে দিয়েছি। জামানতের বাহিরে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, এ চক্রের সাথে জড়িয়ে আজ আমি সর্বস্ব হারিয়েছি। আমারও এ সংস্থায় ৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। সব হারিয়ে এখন আমি সর্বস্বান্ত। তিনি আরো বলেন, এই চক্রের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে আমি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম মন্টু এ প্রসংগে বলেন, নিয়োগের সময় জামানত বাবদ কোন টাকা নেওয়া হয়নি। কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমরা প্রকল্পের বেইস লাইন সার্ভে করার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্প চালু হলে তারা বেতন পাবেন। তিনি আরো বলেন, প্রকল্প চালু হতে এত সময় লাগবে তা আমরা বুজতে পারিনি তাই কিছু বেতনের জন্য আমরা যোগাযোগ চালাচ্ছি।
সহকারী প্রকল্প পরিচালক (মানব সম্পাদ) মো. নাজমুল হক তালুকদার জামানতের বিনিময়ে নিয়োগ নেওযার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা মাঠকর্মীসহ সকল পর্যায়ের কর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছি তাই তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের প্রকল্প দাতা সংস্থা কর্তৃক গ্রহণ করার পর অর্থ বরাদ্ধ হলে, তখন থেকে তাদের বেতন দেওয়া হবে। প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিপিএস সার্ভে চলছে, এটা শেষ হলে প্রকল্পের কাগজপত্র জমা দেব।

Print Friendly

     এই ক্যাটাগরীর আরো খবর